ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত

সফল নেতার গুপ্ত রহস্যঃ দ্যুতিময় স্মিত হাসি। পর্ব -১

Alorpath 4 months ago Views:418

শিশুর হাসি দেখলে সবচেয়ে রূঢ় মানুষটিও গলে যায়। বিশুদ্ধ হাসি খাঁটি সােনার মতাে যা নকল করা যায় না।


দ্যুতিময় স্মিত হাসি ও বিশুদ্ধ হৃদয়

এই গুপ্ত রহস্যের ভিত্তি স্মিত হাসি হলাে হৃদয় ও আত্মার সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক। স্মিত হাসি হলাে সামান্য একটু হাসি ও মুখের মৃদ সঞ্চালন। স্মিত হাসি হৃদয়ে পৌছার সংক্ষিপ্ততম পথ ও আত্মায় পৌছার নিকটতম পথ। স্মিত হাসি এক মােহনীয় রহস্য ও নিয়ামক শক্তি। নিজের অপাপবিদ্ধ চরিত্রের জন্য একটি ছােট শিশু মৃদুহাসির যাদুকরি শক্তি উপলব্ধি করতে পারে। তাই সে মাঝে-মধ্যেই হাসে। কঠিন হৃদয়ের মানুষরাও শিশুর এই হাসির কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে। শিশুর হাসি দেখলে সবচেয়ে রূঢ় মানুষটিও গলে যায়। বিশুদ্ধ হাসি খাঁটি সােনার মতাে যা নকল করা যায় না। জাহিলরা নকল সােনা তৈরীর বৃথাই চেষ্টা করে। কিন্তু খাঁটি সােনার উজ্জ্বল অন্য আর কোনাে উজ্জ্বল্যের মত নয়। নিখাদ স্মিত হাসির যাদুর সাথে অন্যান্য যাদুর তুলনা হয় না। স্মিত হাসি হলাে আত্মার দীপ্তি। আত্ম-মুক্তি ও হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি। স্মিত হাসি ব্যথার নিরাময় ও সুখ-দুঃখের প্রতিকার । স্মিত হাসি. বিবেকের দর্পণ । কারাে চেহারায় সেসব ফুটে উঠে সেগুলি তার ভিতরকার ছবির প্রতিফলন এবং তাঁর আত্মার প্রকৃত দর্পণ ।

দীপ্তিময় হাসি হৃদয় ও আত্মাকে আর্কষিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী সূত্র। স্মিত হাসির রয়েছে এক চিত্তহারী রহস্য যা হৃদয়কে প্রলুব্ধ করে এবং মনকে করে জয়। । যারা স্মিত হাসে তারা সবচেয়ে উত্তম মেজাজ, সবচেয়ে সুখী জীবন ও সবচেয়ে সুন্দর হৃদয়ের অধিকারী। স্মিত হাসি যে গ্রহণ করে তার জন্য তা লাভজনক এবং যে দেয় তার দারিদ্রের কারণ ঘটে না। আপনার যদি অর্থ না থাকে তাহলে চেহারা উৎফুল্ল রাখুন ও স্মিত হাসুন।

চৈনিক হাসি

“স্মিত হাসি কিভাবে দিতে হয় এটা যার জানা নেই তার দোকান দেয়া উচিত নয়।” চীনারা ব্যবসায়ী বলেই তারা ব্যাপারটা ভাল জানে।

ধর্ম প্রচারক, বিচারক, বক্তা, ইমাম, পণ্ডিত ও শিক্ষকরা কি হৃদয়ের ব্যবসায়ী ও লাভজনক পণ্যের মালিক নয়? তারা জনগণের হৃদয় হরণের চেষ্টা করে। কাজেই তারা তাদের পণ্যের নিকট সান্নিধ্যে আসবে এবং এভাবে তারা তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা তাদের সেরা কর্ম থেকে কিনবে। তাই প্রত্যেক ব্যবসায়ী মুখে স্মিত হাসি ধরে রাখতে বাধ্য। যে মানুষটি শিক্ষা দেয়, ইমামত করে, মানুষকে সেবা প্রদান করে কিংবা তাদের বিষয়াদির দেখাশুনা করে সে কুটি করতে, মুখ ভেংচাতে কিংবা কটমট করে তাকাতে পারে কি করে?

কিভাবে স্মিত হাসতে হয়

ঠোটদ্বয় সরিয়ে সামনের দাঁতগুলি বিকীর্ণ করুন; চক্ষুদ্বয় আনন্দে ভরিয়ে তুলুন এবং আত্মাকে মুখ ও খুশীতে সিক্ত করুন। 


একটু হাসি এবং একটু হাসি এবং একটু হাসি!

আব্দুল্লাহ ইবনে আল হারিস ইবনে যুয (রাঃ) বলেছেন। স্মিত হাসি বজায় রাখার ব্যাপারে নবী (সাঃ) -এর চেয়ে ভাল আমি আর কখনও কাউকে দেখিনি।” আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন। বহুলােকের সাথে তার দেখা সাক্ষাৎ হয়েছিল যাদের মুখে সবসময় স্মিত হাসি লেগে থাকত। তাদের মধ্যে রসূলে করীম (সাঃ) ছিলেন সর্বোত্তম। আমরা কি সে শিক্ষাটি লাভ করেছি?

নেতার হাসি

ঠোটদ্বয় নাড়ানাে ও ঝকঝকে দাঁতের প্রকাশ একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির ধৈর্য এবং মহানুভব ব্যক্তির নম্রতার মধ্যে লক্ষ্য করা যাবে। স্মিত হাসি এমন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ যা সেই ব্যক্তিকে স্বর্গে নিয়ে যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে আল হারিস এ বলেছেন, “মহানবী (সাঃ) -এর হাসিটা ছিল শুধুমাত্র স্মিত হাসি।” (তিরমিযী হাদীস নং ৩৭১০)

হাসি ও স্মিত হাসি

আয়েশা (রাঃ) বলেছেন “রসূলে করীম (সাঃ) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুহৃদয় ব্যক্তি। তিনি ছিলেন আপনাদের যে কোনাে জনের মতােই একজন মানুষ। শুধু তফাৎ হলাে তিনি সর্বদাই হাসিমুখে থাকতেন।" (ইবনে আবি আল দুনইয়া আল-আখলাক দ্রষ্টব্য। বদান্যতা ও দুস্থদের দান খয়রাত বিষয়ক অধ্যায় হাদীস নং ৩৮৯)

আরো পড়ুন- ওযু ও আধুনিক বিজ্ঞান

নিজের চেহারাকে উফুল রেখে পরহিতকারিতা

আবু যার আল-গিফার (রাঃ) বরাতে বলা হয়েছে, “রসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, তােমার ভাইয়ের মুখে হাসি ফুটানােই হলাে পরহিতকারিতা শুভকে আদেশ করা ও অশুভকে নিষেধ করাই পরহিতকারিতা; স্বল্প দৃষ্টির মানুষকে দেখতে সাহায্য করাই পরহিতকারিতা; লােকের পায়ে আঘাত লাগতে পারে এমন কোনাে পাথর, কাঁটা বা হাঁড় পথ থেকে সরিয়ে ফেলাই পরহিতকারিতা এবং নিজের বালতি ভরা পানি তােমার ভাইয়ের শূন্য বালতিতে ঢেলে খালি করে ফেলাই পরহিতকারিতা।" (ইবনে হিব্বান হাদীস নং ৫৩০)

উৎফুল্ল চেহারা

আবু হুরায়রা (রাঃ) উল্লেখ করেছেন, রসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন : “তােমার ধন-দৌলত দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জয় করতে পারবে না, তবে নিজের উৎফুল্ল চেহারা ও সর্বোৎকৃষ্ট আচার-আচরণ দিয়ে জয় করতে পারবে।”(আল-বাইহাকী হাদিস নাম্বার ৭৮০৩)

- সূলাইমান বিন  আওয়াদ ক্বিয়ান



মন্তব্য