সিয়াম

রমজান মাসের ফজিলত

Alorpath 4 months ago Views:425

এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।


আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন, “তােমাদের নিকট রমযান মাস উপস্থিত হয়েছে, যা একটি বরকতময় মাস। তােমাদের ওপর আল্লাহ তাআলা এ মাসের সাওম ফরয করেছেন। এ মাস আগমনের কারণে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের গলায় লােহার বেড়ী পরানাে হয়। এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।”( নাসাঈ, হাদীস নং ২১০৬) 

উবাদা ইবন সামিত রাদিআল্লাহু আনহু মারফু সূত্র বর্ণনা করেন, “তােমাদের কাছে রমযান মাস এসেছে, বরকতের মাস। এ মাসে রয়েছে। কল্যাণ, আল্লাহ তােমাদেরকে সে কল্যাণে আবৃত করে দেন। ফলে তিনি রহমত নাযিল করেন, গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় এবং এ মাসে দো'আ কবুল করা হয়। আল্লাহ তােমাদের (সৎ কাজের) প্রতিযােগিতার দিকে তাকান এবং তিনি তােমাদেরকে নিয়ে ফিরিশতাদের কাছে গর্ব করেন। সুতরাং তােমরা তােমাদের নিজেদের কল্যাণ আল্লাহকে দেখাও। কেননা হতভাগা তাে সে ব্যক্তি যে এ মাসে মহান আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।”(মুসনাদুশ শামিয়্যীন, তাবরানী, ৩/২৭১, হাদীস নং ২২৩৮)


সহীহাইনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “রমযান মাস আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করে দেওয়া হয়।"(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৯৯)

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, “রহমাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়।”(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৭৯)

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “শয়তান ও দুষ্ট জিন্নদেরকে রমযান মাসের প্রথম রাতেই শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলাে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর একটি দরজাও তখন আর খােলা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলাে খুলে দেওয়া হয় এবং এর একটি দরজাও তখন আর বন্ধ করা হয় না। (এ মাসে) একজন ঘােষণাকারী ঘােষণা দিতে থাকেন, হে কল্যাণ অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত হও। আর বহু লােককে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ মাসে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক রাতেই এরূপ থেকে থাকে।”(তিরমিযী, হাদীস নং ৬৮২)

আরো পড়ুন- আল্লাহ তাআলার বিস্ময়কর নেয়ামত জমজম কূপ

‘আমর ইবন মুররাহ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “কুযা'আ থেকে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনাে (সত্য) ইলাহ নেই, আপনি আল্লাহর রাসূল, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, রমযান মাসের সাওম পালন করি ও রমযানের রাতে সালাত আদায় করি এবং যাকাত আদায় করি তাহলে আমার ব্যাপারে আপনি কী মনে করেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যে ব্যক্তি এরূপ আমল করে মারা যাবে সে সিদ্দীক ও শহীদগণের সাথে থাকবেন।” (ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ২২১২)

“আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রমযান মাস এসেছে, তবে কী দো'আ পড়বাে? তিনি বলেন, তুমি বলবে, “হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতে ভালােবাসাে । অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।”

- শায়েখ যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আলী হাম্বলী।



মন্তব্য