আখিরাত

শহীদের ফজিলত ও মর্যাদা

Alorpath 4 months ago Views:512

আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে কখনাে মৃত মনে করাে না। বরং তারা তাদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।


শহীদের মর্যাদা ও মর্তবা যে কত বড় যার বর্ণনা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কুরআন শরীফে করেছেনঃ “যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলাে না। বরং তারা জীবিত কিন্তু তােমরা তা বুঝ না।” (সূরা আল বাকারাহ : ১৫৪)

“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে কখনাে মৃত মনে করাে না। বরং তারা তাদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহে যা কিছু দান করেছেন তাতে তারা আনন্দ প্রকাশ করছে। আর যারা এখনও তাদের কাছে এসে পৌছেনি তাদের পিছনে তাদের জন্যে আনন্দ প্রকাশ করে। কারণ তাদের কোন ভয় নেই এবং কোন চিন্তা-ভাবনাও নেই। তারা আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহের জন্যে আনন্দ প্রকাশ করে এভাবে যে, আল্লাহ ঈমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না।” (সূরা আলে ইমরানঃ ১৬৯-১৭২)


আলে ইমরানের এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা শহীদগণের চারটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, প্রথম বৈশিষ্ট্য হলাে, তারা অনন্ত জীবন লাভ করেছেন। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলাে এই যে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক পান, তৃতীয় বৈশিষ্ট্য এই যে, তারা সদা-সর্বদা আনন্দমুখর থাকেন। চতুর্থ বৈশিষ্ট্য এই যে, তারা যেসব মুসলিম ভাইদেরকে পৃথিবীতে রেখে গিয়েছেন তাদের ব্যাপারেও তাদের এ আনন্দ অনুভূত হয় যে, তারাও পৃথিবীতে জিহাদে নিয়ােজিত আছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত সব যুগে থাকবেন। ফলে তারাও জিহাদ করে শহীদ হয়ে এসব অতি উন্নতমানের নিয়ামত ও অতি উচ্চ মর্যাদা লাভ করবেন।


এ আয়াতের হুকুম সাধারণ। কিন্তু ওহুদ যুদ্ধের পর নাযিল হওয়ায় ওহুদে যেসব মুসলিম শহীদ হয়েছেন তাদের উন্নতমানের নিয়ামত ও অতি উচ্চ মর্যাদার কথা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর বর্ণিত হাদীসে পাওয়া যায়। আর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাছউদ (রা)-এর হাদীসে সব যুগের শহীদগণের উন্নত মানের নিয়ামত ও অতি উচ্চ মর্যাদার কথা বর্ণিত পাওয়া যায়। উভয়ই ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করে অন্যান্য হাদীস বর্ণনা করব।
“হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর ছাহাবাগণকে বললেন, যখন তােমাদের ভাইগণ ওহুদের যুদ্ধের দিন শহীদ হলাে তখন আল্লাহ তাদের রূহ্সমূহ সবুজ বর্ণের পাখির ভিতরে রাখলেন। এ অবস্থায় তারা জান্নাতের নহরগুলাের উপরে এসে জান্নাতের ফলসমূহ খায় এবং আরশের নিচে লটকানাে স্বর্ণের ঝাড় বাতির নিকটে এসে থাকে। সুতরাং যখন তারা তাদের উত্তম খানা, উত্তম পান ও উত্তম বাসস্থান পেল তখন তারা বলল, “কে আমাদের জীবিত ভাইদের নিকট আমাদের তরফ থেকে এ সংবাদ পৌছাবে যে, আমরা জান্নাতে জীবিত আছি। যেন পৃথিবীতে জীবিত মুসলিম ভাইগণ জান্নাতে হাসিল করার জন্য অনােযােগী না হয় এবং যুদ্ধের সময় যেন তারা অলসতা ও কাপুরুষতা না করে। তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমি তােমাদের তরফ থেকে তাদের নিকট পৌছিয়ে দিব। এরপর আল্লাহ সূরা আলে ইম-রানের এ আয়াত নাযিল করেন।


আরো পড়ুন- জান্নাতিরা যেভাবে জান্নাতে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হবেন।


দ্বিতীয় হাদীস হলাে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণিত এ হাদীস হল সাধারণত যাতে সব যুগের শহীদগণের উন্নতমানের নিয়ামত ও অতি উচ্চ মর্যাদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। মাসরুক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-এর নিকট সূরা আলে ইমরানের এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি বললেন, আমরা এ আয়াত সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট জিজ্ঞেস করেছিলাম তখন তিনি এরশাদ করলেন, শহীদগণের রূহ্সমূহ সুবজ বর্ণের পাখিগুলাের ভিতরে রাখা হয়, তাদের জন্য আরশের নিচে ঝাড় বাতিসমূহ লটকানাে হয়েছে। তারা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা ভ্রমণ করে থাকে। অতপর তারা ঐ বাতিসমূহের নিকটে এসে থাকে। এরপর তাদের প্রভু তাদের দিকে ভালভাবে উঁকি দিয়ে দেখেন ও বলেন, তােমরা কি আর কোন বস্তুর খাহেশ কর? তারা উত্তরে বলে আমরা আর কোন বস্তুর খাহেশ করব অথচ আমরা এত সুন্দর অবস্থায় আছি যে, জান্নাতের যেখানে ইচ্ছ সেখানে ভ্রমণ করে থাকি। এরপর আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে তিন বার এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন। এ অবস্থায় তারা দেখে যে, তাদেরকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে না তখন তারা বলে, হে আমাদের প্রভু আমরা ইচ্ছা করি যে, আমাদের রূহসমূহ পুনরায় আমাদের শরীরে দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান, আমরা আপনার পথে দ্বিতীয়বার যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে আসি। যখন আল্লাহ তায়ালা দেখেন তাদের আর কোন প্রয়ােজন নেই তখন তাদেরকে প্রশ্ন থেকে বিরত রাখা হয়। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত পৃঃ ৩৩০)


- মাওলানা আব্দুল মতিন বিক্রমপুরী।



মন্তব্য