সিয়াম

রমজান মাসের শুরু-শেষ নির্ধারণ

Alorpath 3 months ago Views:183

যখন তােমরা চাঁদ দেখ সওম পালন কর, আবার যখন তােমরা চাঁদ দেখ সওম ত্যাগ কর। যদি তা তােমাদের থেকে আড়াল হয়, তাহলে ত্রিশ দিন সিয়াম পালন কর।


আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহর একদা রমযান প্রসঙ্গে বলেন- তােমরা সওম রাখবে না যতক্ষণ না হেলাল (নতুন চাঁদ) দেখ, আর সওম ছাড়বে না যতক্ষণ না তা দেখ, আর যদি তােমাদের থেকে তা অদৃশ্য হয়, তাহলে মাস পূর্ণ কর।


বুখারীর অপর বর্ণনায় আছে- তােমরা তা (নতুন চাঁদ) দেখে সওম পালন কর, আর যখন তােমরা তা দেখ সাওম ভঙ্গ কর, যদি তা তােমাদের থেকে আড়াল হয়, তবে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে। (বুখারী, হা: ১৮০৭, দ্বিতীয় হাদীস বুখারী, হা: ১৮০১ ও মুসলিম, হা: ১০৮০)


জমহুর ওলামায়ে কেরাম বলেন : যদি ঊনত্রিশ তারিখ চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে। (শারহুন নববী আলা মুসলিম : ৭/১৮৬)


অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে- যদি চাঁদ তােমাদের থেকে আড়াল হয়, তাহলে তার ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।”


অপর বর্ণনায় এসেছে; “ত্রিশ দিন গণনা কর।” অপর বর্ণনায় এসেছে : “সংখ্যা পূর্ণ কর।” এসব বর্ণনা মুসলিমে রয়েছে।(দেখুন : সহীহ মুসলিম, হা : ১০৮০-১০৮১)


আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন- যখন তােমরা চাঁদ দেখ সওম পালন কর, আবার যখন তােমরা চাঁদ দেখ সওম ত্যাগ কর। যদি তা তােমাদের থেকে আড়াল হয়, তাহলে ত্রিশ দিন সিয়াম পালন কর।
অপর বর্ণনায় আছে : “তােমরা চাঁদ দেখে সওম রাখ ও চাদ দেখে সওম ত্যাগ কর, যদি তােমাদের থেকে আড়াল হয়, তাহলে শাবানের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। 


অপর বর্ণনায় আছে ; যদি তা তােমাদের থেকে লুকিয়ে থাকে, তাহলে শাবানের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। (বুখারী-১৮১০, মুসলিম, হা: ১০৮১)


আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- লােকেরা চাঁদ দেখছিল, আমি রাসূলুল্লাহকে সংবাদ দিলাম, আমি চাঁ দেখেছি, অত:পর তিনি সওম পালন করেন ও লােকদের সওম পালনের নির্দেশ দেন। (আবু দাউদ : ২৩৪৩, দারামি : ১৬৯১, দারাকুতনি; ২/১৫৬, বায়হাকি: ৪/২১২, তাবরানি ফিল আওসাত; ৩৮৭৭, ইবনে হিব্বান, ৩৪৪৭ ও হাকেম: ১/৫৮৮৫) 


শিক্ষা ও মাসায়েল ১১টি


১. রমযানের সওম শরয়ী চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। যদি মেঘ, ধুলাে, ধুয়া ইত্যাদি চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়, তাহলে শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা ওয়াজিব।


২ যদি মেঘ বা ধুলাে ইত্যাদির কারণে চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে সতর্কতাস্বরূপ শাবানের শেষ দিন সওম রাখবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ নিষেধ করেছেন : চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন কর না। আর নিষেধাজ্ঞার দাবি হচ্ছে হারাম।


৩. চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে সওম ওয়াজিব তারপর জ্যোতিষ্ক ও গণকদের কথায় কর্ণপাত করা যাবে না। (শারহু ইবনুল মুলাক্কিন আলাল উমদাহ : ৫/১৭৮)


৪. ইসলামি শরিয়তের সরলতার প্রমাণ যে, সওম রাখা ও ত্যাগ করা চাদ দেখার ওপর নির্ভরশীল করেছে, যার জন্য শিক্ষার প্রয়ােজন হয় না, দৃষ্টিসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তি তা দেখতে পায়, পক্ষান্তরে যদি তা নক্ষত্রের ওপর নির্ভরশীল করা হতাে, তাহলে অনেক জায়গায় মুসলিমের নিকট চাদের বিষয়টি কঠিন আকার ধারণ করত, যেখানে গণক ও জ্যোতিষ্ক অনুপস্থিত। (শারহু ইবনে বাত্তাল আলাল বুখারী : ৪/২৭)


৫. যে দেশে চাঁদ দেখা গেল, তার অধিবাসীদের ওপর সওম ওয়াজিব। যে দেশে চাঁদ দেখা যায়নি, তার অধিবাসীদের ওপর সওম ওয়াজিব নয়, কারণ সওমের সম্পর্ক চাঁদ দেখার সাথে, দ্বিতীয়ত চাঁদের কক্ষপথ বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন। (দেখুন : শারহু ইবনুল মুলানি : ৫/১৮১-১৮২)


৬. রমযানের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে একজন বিশ্বস্ত (শরীয়তের ভাষায় আদেল) ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণযােগ্য, যার প্রমাণ ইবনে ওমর (রা)-এর হাদীস। কিন্তু রমযান সমাপ্তির সংবাদের জন্য দু’জন নির্ভরযােগ্য লােকের সাক্ষ্য অপরিহার্য। একাধিক হাদীস দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত। (তিরমিযী (রহ.) তার জামে তিরমিযীতে ৩/৭৪ -এর বলেছেন) “সওম ত্যাগ করার বিষয়ে দু’জন নির্ভরযােগ্য ব্যক্তির সাক্ষ্য অপরিহার্য, এতে কোন আলেমের দ্বিমত নেই।” ইমাম নববী শারহু মুসলিমে বলেছেন: কতক মুসলিমের চাঁদ দেখা যথেষ্ট, সবার দেখা জরুরি নয়, তবে কমপক্ষে দু’জন নির্ভরযােগ্য ব্যক্তির সাক্ষী অবশ্য জরুরি। বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী সওমের ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণযােগ্য কিন্তু সওম ভঙ্গেরক্ষেত্রে দু'জন নির্ভরযােগ্য ব্যক্তির সাক্ষ্য ব্যতীত চাঁদ দেখা গ্রহণ করা যাবে। (মাজমু ফাতাওয়া ইবনে বায-১৫৬২)


৭ যিনি দেশের প্রধান তিনি সওম বা ঈদের ঘােষণা দিবেন। (বুলুগুল মারাম, আবু কুতাইবাহ ফিরইয়াবির টিকাসহ : ১/৪১২, আরাে দেখুন : ফাতওয়া সাদিয়া)
৮. যে চাঁদ দেখে তার দায়িত্ব দেশের প্রধান বা তার প্রতিনিধির নিকট সংবাদ পৌছে দেয়া।


আরো পড়ুন- ইসলামী শরীয়তে রােযা ও তার পর্যায়ক্রম


৯. আধুনিক প্রচার যন্ত্র থেকে প্রচারিত রমযান শুরু বা সমাপ্তির সংবাদ বিশ্বাস করা জরুরি, যদি তা দেশের প্রধান বা তার প্রতিনিধি থেকে প্রচার করা হয়।


১০, মাসের শুরু-শেষ জানার জন্য ত্রিশে শাবান ও ত্রিশে রমযানের চাঁদ দেখা মুস্তাহাব।


১১. নারী যদি চাঁদ দেখে, তার সাক্ষ্য গ্রহণ করার ব্যাপারে আলেমদের দ্বিমত রয়েছে। শায়খ ইবনে বায (র) তার চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণ না করার অভিমত প্রাধান্য দিয়েছেন, কারণ চাঁদ দেখা পুরুষদের বৈশিষ্ট্য, এ ব্যাপারে তারা নারীদের থেকে অধিক জ্ঞানের অধিকারী। (ইবনে ওমর (রা) হাদীসের ওপর ভিত্তি করে যারা চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির সাক্ষ্য কবুল করা বৈধ বলেন, তারা এ ব্যাপারে নারী ও গােলামের সংবাদ গ্রহণযােগ্য মনে করেন, যেমন খাত্তাবি আবু দাউদের টিকা মাআলেমুস সুনানে উল্লেখ করেছেন : ২/৭৫৩)



মন্তব্য