সিয়াম

ফরজ রােযার নিয়ত

Alorpath 3 months ago Views:1297

যে ফজরের পূর্বে সওমের নিয়ত করল না, তার সওম নেই।


হাফসা বিনতে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ফজরের পূর্বে সওমের নিয়ত করল না, তার সওম নেই।


ইমাম নাসায়ী এভাবে বর্ণনা করেছেন- ফজরের পূর্বে রাত থেকে সওম আরম্ভ করল না, তার সওম নেই। (আবু দাউদ-২৪৫৪,


তিরমিযী-৭৩০, নাসায়ী : হা: ৪/১৯৬, ইবনে মাজাহ : ১৭০০, আহমদ-৬/২৮৭, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ : হা: ১৯৩৩)


আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) বলতেন- সওম রাখবে না, তবে যে ফজরের পূর্ব থেকে সওম আরম্ভ করেছে। (মুয়াত্তা মালেক : ১/২৮৮)


রাত থেকে সওম আরম্ভ করার অর্থ হচ্ছে : রাত থেকে সওমের দৃঢ় ও চূড়ান্ত নিয়ত করা, যে ফজরের পূর্বে সওমের দৃঢ় নিয়ত করল না তার সওম হবে না। (তুহফাতুল আহওয়াযি : ৩/৩৫২)




ইমাম তিরমিযী (র) বলেন : আলেমদের নিকট এ হাদীসের অর্থ হচ্ছে : রমযান মাসে ফজরের পূর্বে যে সওম আরম্ভ করল না, অথবা রমযানের কাযা অথবা মান্নতের সওমে যে রাত থেকে নিয়ত করল না, তার সওম শুদ্ধ হবে না। হ্যা, নফল সওমের নিয়ত ভাের হওয়ার পর বৈধ। এটা ইমাম শাফেয়ী, আহমদ ও ইসহাকের অভিমত। (জামে তিরমিযী: ৩/১০৮)


শিক্ষা ও মাসায়েল ৪টি


১. রােযার জন্য নিয়ত করা জরুরি, যদি কেউ স্বাস্থ্য রক্ষা, ডাক্তারের পরামর্শ, পানাহারের প্রতি অনীহা বা অন্য কারণে খাদ্য ও শ্রীগমন থেকে বিরত থাকে, তার এ বিরত থাকা শরয়ি সওম গণ্য হবে না, সে এ কারণে সওয়াব পাবে না ।


২ নিয়ত অন্তরের আমল, অতএব যার অন্তরে এ ধারণা হলাে যে, আগামীকাল সে সওম রাখবে, সে নিয়ত করল।


আরো পড়ুন- রমজানের ফজিলত


৩. ওয়াজিব সওম যেমন রমযান, মানত ও কাফফারার ক্ষেত্রে পূর্ব দিন তথা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সওমের নিয়তে থাকা জরুরি। যে ব্যক্তি দিনের কোনাে অংশে সওমের নিয়ত করল, তার সওম পূর্ণ দিন ব্যাপী হলাে না, তাই তার সওম শুদ্ধ হবে না। এ জন্য ওয়াজিব সওমে, সুবহে সাদিকের পূর্ব থেকে নিয়ত করা জরুরি।


৪. রাতের যে কোনাে অংশে ফরয বা নফল সওমের নিয়ত করা বৈধ। নিয়ত করার পর সওম পরিপন্থী কোনাে কাজ করলে নিয়ত নষ্ট হবে না, নতুন নিয়তের প্রয়োজন নেই।



মন্তব্য