সিয়াম

রােযার ফযীলত

Alorpath 3 months ago Views:1980

আল্লাহর রাস্তায় যে একদিন রােযা পালন করল, আল্লাহ তার চেহারা জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যাবেন।


আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “রােযা ঢাল স্বরূপ”। (বুখারী-১৭৯৫, মুসলিম-১১৫১)


মুসনাদে আহমদের এক বর্ণনায় আছে, “সিয়াম ঢাল ও জাহান্নাম থেকে সুরক্ষার মজবুত কিল্লা।” (আহমদ-২/৪০২)


জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় সিয়াম ঢাল স্বরূপ, বান্দা এর দ্বারা জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা লাভ করবে।” (আহমদ-৩/৩৯৬)



উসমান ইব্ন আবুল আস সাকাফি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : “সিয়াম জাহান্নাম থেকে ঢাল স্বরূপ, তােমাদের কারাে যুদ্ধের ময়দানের ঢালের ন্যায়।” (আহমদ-৪/২২, নাসায়ি-৪/১৬৭, ইবনে মাজাহ-১৬৩৯, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-২১২৫, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৬৪৯)


আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা) বলেন, আমি নবীকে বলতে শুনেছি : “রােযা ঢাল, যতক্ষণ না তা ভাঙ্গা হয়।” (নাসায়ী-৪/১৬৭, আহমদ-১/১৯৫, তায়ালিসি-২২৭, আবু ইয়ালা-৮৭৮, দারামি-১৭৩২, 
রােযা প্রকৃতপক্ষে ঢাল, তাই রােযা পালনকারীর কর্তব্য এ ঢালের হিফাজত করা, এ দিকে ইশারা করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “রােযা উপকারিতার ভিত্তিতে ঢালস্বরূপ, অর্থাৎ প্রবৃত্তিকে দুর্বল করে- এ হিসেবে এদিকে ইশারা করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “সে তার প্রবৃত্তি ও খানা আমার জন্য ত্যাগ করে।”


রােযা সওয়াবের হিসেবে ঢালস্বরূপ, এ দিকে ইশারা করে নবী বলেছেন ;“আল্লাহর রাস্তায় যে একদিন রােযা পালন করল, আল্লাহ তার চেহারা জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যাবেন।”


শিক্ষা ও মাসায়েল ৪টি


১. রােযা কুপ্রবৃত্তিকে বশীভূত করে, যে কুপ্রবৃত্তি ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। এ জন্য রােযা জাহান্নামের ঢালস্বরূপ। ইরাকি বলেন : “রােযা জাহান্নামের ঢাল, কারণ সে প্রবৃত্ত থেকে বিরত রাখে, আর জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত।” (দেখুন: তারহুত তাসরিব ফি শারহিত তাকরিব-৪/৯০)


আরো পড়ুন- রােযাদারের সুরমা ও মিসওয়াক ব্যবহার


২. রােযা ফযীলত পূর্ণ, মুসলিমদের উচিত অধিক পরিমাণ নফল রােযা পালন করা, যদি সে তার ক্ষমতা রাখে ও তার চেয়ে উত্তম আমলের প্রতিবন্ধক না হয়, যেমন জিহাদ ইত্যাদি।


৩. সে রােযা জাহান্নামের ঢালস্বরূপ, যে রােযায় সওয়াব হ্রাসকারী বা রােযা বিনষ্টকারী কথা বা কর্ম সংঘটিত হয়নি, যেমন গীবত, নামীমা, মিথ্যা ও গালি। কারণ আবু উবাইদার বর্ণনায় এসেছে: “রােযা ঢাল, যতক্ষণ না সে তা ভেঙ্গে ফেলে।” রােযা ভঙ্গ হয় হারাম কর্ম দ্বারা, অতএব রােযা পালনকারীর উচিত তার রােযাকে সওয়াব বিনষ্টকারী অথবা সওয়াব হ্রাসকারী কর্মকাণ্ড থেকে হিফাজত করা, যেন তার রােযা তার জন্য জাহান্নামের ঢাল হয়।


৪. রােযার উদ্দেশ্য নফসকে পবিত্র করা ও অন্তর সংশােধন করা, শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়।



মন্তব্য