ঈমান

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৪

Alorpath 2 months ago Views:573

জেরুজালেমে জনবসতি বৃদ্ধি মানে মদিনার বিনাশ। মদিনার বিনাশ মানে বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। বিশ্বযুদ্ধের সূচনা মানে কনস্টান্টিনােপল বিজয়। কনস্টান্টিনােপল বিজয় মানে দাজ্জালের আবির্ভাব।






দাজ্জালের পূর্বে বিশ্ব পরিস্থিতি

নাফে বিন উতবা বিন আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “অচিরেই তােমরা আরব উপদ্বীপ যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন। অতঃপর পারস্যের (বর্তমান ইরান) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন। অতঃপর রােমানদের (তুরস্ক তথা বাইযাইন্টাইন বাহিনীর) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন। পরিশেষে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, সেখানেও আল্লাহ তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন।-" (মুসলিম)

মুয়ায বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “জেরুজালেমে জনবসতি বৃদ্ধি মানে মদিনার বিনাশ। মদিনার বিনাশ মানে বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। বিশ্বযুদ্ধের সূচনা মানে কনস্টান্টিনােপল বিজয়। কনস্টান্টিনােপল বিজয় মানে দাজ্জালের আবির্ভাব।”

দাজ্জাল প্রকাশের পূর্বে মুসলমান এবং রােমান খৃষ্টানদের মধ্যে বড় ধরনের কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হবে। আল্লাহর রহমতে মুসলমানগণ চূড়ান্ত বিজয়ার্জন করবেন।

যি মিখমার রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “রােমান (খৃষ্টান)দের সাথে তােমরা শান্তিচুক্তি করবে। অতঃপর তােমরা এবং তারা মিলে পেছনের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন করবে। সম্পদ বণ্টন শেষে ফিরতি পথে যখন তােমরা উঁচু ভূমিতে অবতরণ করবে, তখন এক খৃষ্টান ক্রোশ তুলে ধরে -“ক্রোশের বিজয় হয়েছে, ক্রোশের বিজয় হয়েছে-” বলতে থাকলে এক মুসলমান গােস্বায় ক্রোশ ভেঙ্গে ফেলবে। আর তখনই খৃষ্ট সম্প্রদায় চুক্তির কথা ভুলে গিয়ে মহাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।

অপর বর্ণনায়- “অতঃপর মুসলমানরাও হাতে অস্ত্র তুলে নেবে। তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হবে। মুসলমানদের ঐ দলটিকে আল্লাহ শাহাদাতের সুমহান মর্যাদায় ভূষিত করবেন।

বিস্তারিত প্রেক্ষাপট অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছেঃ আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না রােমক (খৃষ্ট) সম্প্রদায় আমাক (মতান্তরে দাবেক) প্রান্তরে (শামের প্রসিদ্ধ হালব শহরের সন্নিকটে একটি স্থান, সেখানেই মহাযুদ্ধটি সংঘটিত হবে) এসে একত্রিত হবে।তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দামেস্ক শহর থেকে একদল শ্রেষ্ঠ মুসলমান বের হবে। উভয় বাহিনী মুখােমুখি হলে রােমক সম্প্রদায় বলবে- তােমরা। সরে যাও! ধর্মত্যাগীদেরকে আমরা হত্যা করতে এসেছি (বুঝা গেল, এর পূর্বে মুসলিম-খৃষ্ট আরাে কতিপয় যুদ্ধ সংঘটিত হবে। মুসলমান সেখানে বিজয়ী হয়ে কিছু খৃষ্টানকে বন্দি করে নিয়ে আসবে।পরবর্তীতে বন্দি খৃষ্টানরা মুসলমান হয়ে মুজাহিদদের কাতারে শামিল হয়ে যাবে) মুসলমান তখন বলবে- (দ্বীনী) ভাইদেরকে কস্মিনকালেও তােমাদের হাতে তুলে দেব না। ফলে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে এক-তৃতীয়াংশ (মুসলমান) পরাজিত হয়ে পালিয়ে যাবে, এদের তওবা আল্লাহ কখনাে কবুল করবেন না। এক-তৃতীয়াংশ নিহত হয়ে যাবে, আল্লাহর কাছে তারা শ্রেষ্ঠ শহীদের মর্যাদা পাবে। অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশকে আল্লাহ মহা-বিজয় দান করবেন, ফেতনা কখন-ই এদের গ্রাস করতে পারবে না। সামনে এগিয়ে তারা কনস্টান্টিনােপল বিজয় করবে। তরবারিগুলাে বৃক্ষের সাথে ঝুলিয়ে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন করতে থাকবে, হঠাৎ শয়তান তাদের মাঝে ঘােষণা করবে- “দাজ্জাল তােমাদের পরিবারগুলােকে ধাওয়া করেছে।ঘােষণাটি মিথ্যে হলেও মুসলমান যুদ্ধ-লব্ধ সম্পদ মাটিতে ফেলে দিয়ে স্বদেশ অভিমুখে রওয়ানা হবে। শামে ফিরে আসার পর সত্যি-ই দাজ্জাল বের হয়ে আসবে।”

দাজ্জাল প্রকাশপূর্ব আরাে কতিপয় ঘটনাঃ
আবু উমাম বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “দাজ্জালের পূর্বে তিনটি মহা দুর্ভিক্ষময় বৎসর অতিবাহিত হবে। প্রাকৃতিক সকল খাদ্যোপকরণ ধ্বংস হয়ে গেলে মানুষ প্রচণ্ড খাদ্যাভাবে পড়ে যাবে। প্রথম বৎসর আল্লাহ আসমানকে এক তৃতীয়াংশ বৃষ্টি এবং জমিনকে এক তৃতীয়াংশ ফসল বন্ধ করে দেয়ার আদেশ করবেন। দ্বিতীয় বৎসর আল্লাহ আসমানকে দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি এবং জমিনকে দুই তৃতীয়াংশ ফসল বন্ধ করে দেয়ার আদেশ করবেন। তৃতীয় বৎসর আল্লাহ আসমানকে সম্পূর্ণ বৃষ্টি এবং জমিনকে সম্পূর্ণ ফসল বন্ধ করে দেয়ার আদেশ করবেন। ফলে এক ফোটা বৃষ্টি-ও বর্ষিত হবে না। একটি শস্য-ও অঙ্কুরিত হবে না। আল্লাহ চাহেন তাে মুষ্টিমেয় ছাড়া সকল ছায়া-দার বস্তু ধ্বংস-মুখে পড়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে (অর্থাৎ গাছ, পালা ও বৃক্ষকুল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে)। সেদিন তাহলে মানুষ কি খেয়ে জীবন ধারণ করবে হে আল্লাহর রাসূল? প্রশ্নের উত্তরে নবীজী বললেন- তাকবীর (আল্লাহু আকবার পাঠ এবং তাহমীদ(আলহামদুলিল্লাহ  পাঠ) মানষের পাকস্থলীতে খাদ্যের কাজ দেবে। (ইবনে মাজা)


দাজ্জালের আলােচনা উঠে যাবে রাশেদ বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত, ইস্তাখির (পারস্য রাজাদের বস-বাসস্থল ও ধন সম্পদে সর্বোন্নত নগরী) যখন বিজয় হয়, ‘দাজ্জাল বেরিয়ে গেছে, দাজ্জাল বেরিয়ে গেছে বলে- এক ঘােষক ঘােষণা করতে থাকলে ইবনে জুছামা তার কাছে এসে বললেন- “চুপ কর!নবী করীম সা.কে আমি বলতে শুনেছি- “দাজ্জাল ততক্ষণ পর্যন্ত বের হবে না, যতক্ষণ না মানুষ তার কথা ভুলে যাবে, মিম্বর থেকে দাজ্জালের আলােচনা উঠে যাবে।”

-চলবে।



মন্তব্য