তাওহীদ

ইখলাস

Alorpath 8 months ago Views:130

নিষিদ্ধ বিষয়সমূহে লিপ্ত হওয়ার কারণ


প্রথমত: ঈমানের দুর্বলতা:

ঈমান হল মুমিনের আত্মরক্ষার জন্য সবচাইতে মজবুত বড় হাতিয়ার; ঈমানই মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্গ আশ্রয়স্থল, যা তাকে খারাপ, ঘৃণিত, নিকৃষ্ট নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। যখন কোন মানুষ আল্লাহর আনুগত্য হতে দূরে সরে যায়, তখন তার ঈমান দুর্বল হয় এবং সে অন্যায় আল্লাহ রব্বুল আলামীনের নাফরমানি করা অবাধ্য হওয়ার সাহস পায়। যে কারণে কোন কোন মনীষী বলেন, তিনটা জিনিস হল তাকওয়ার নিদর্শন। এক. শক্তি-সামর্থ থাকা সত্ত্বেও খারাপ কামনা-বাসনা আসক্তির চাহিদা ছেড়ে দেয়া। দুই. নফসের বিরোধিতা করে নেক আমলসমূহ পালন করা। তিন. নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমানতকে তার হকদার নিকট পৌঁছে দেয়া। এই তিনটি কাজ যে ব্যক্তি করবে তা প্রমাণ করে যে লোকটির মধ্যে ঈমান দ্বীনদারি আছে

দ্বিতীয়: অসৎ সঙ্গ:

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- "মানুষ তার বন্ধুর স্বভাবের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, সুতরাং তোমরা দেখেশুনে বন্ধু নির্বাচন করবে"

সাধারণত: মানুষ যেসব অন্যায়, পাপাচার অপরাধ অপকর্ম করে থাকে, তার অধিকাংশের কারণ হলো তার অসৎ সঙ্গী। যাদের সঙ্গে খারাপ হয় তারা ইচ্ছা করলেও ভালো থাকতে পারে না। সঙ্গীরা তাদের খারাপ অন্যায় কাজের দিকে নিয়ে যায়

একজন বছরের যুবক তার জীবনে প্রথম অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে বলল, "আমি প্রথমে আমার এক বন্ধুর বাসায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে সেখানে নিষিদ্ধ সিনেমা দেখি। আমি তার কামরায় অবস্থান করলে সেই ভিডিও ফিল্ম চালালে আমি তার সঙ্গে বসে তা দেখতে থাকি। ছিল আমার জীবনের সর্বপ্রথম অপরাধ

আল কোরআনের দৃষ্টিতে সুদ

 তৃতীয়: বৃষ্টির হেফাজত করা:

 মানুষ যখন রাস্তায় বের হয় তখন তাকে অবশ্যই দৃষ্টির হেফাজত করতে হবে। কারণ, মানুষের দৃষ্টি হল ইবলিশের বিষাক্ত হাতিয়ার বা তীর। দৃষ্টি হেফাজত করতে না পারলে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের শিকার হতে হয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদের  দৃষ্টির ব্যাপারে অধিক সতর্ক করেন এবং ভয় দেখান। তিনি বলেন- "মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে। এটা তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। (সূরা নূর আয়াত ৩০)


চতুর্থ: বেকারত্ব:

বেকারত্ব যুবকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। শুধু ক্ষতি নয়, এটা মানব জীবনের জন্য বড় একটা অভিশাপ। যখন তাদের কোনো কাজ না থাকে তখন তাদের মস্তিষ্কে খারাপ চিন্তা ঢুকে পরে এবং বেকারত্ব তাদের খারাপ অশ্লীল কাজের দিকে নিয়ে যায়

পঞ্চম: নিষিদ্ধ কাজে শৈথিল্য:

মানুষ যখন কোন কাজে শিথিলতা দেখায়, তখন তা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে। অধিকাংশ সময় মেয়েদের প্রতি তাকানো তাদের সাথে সংমিশ্রণ পুরুষকে অশ্লীল কাজ করতে বাধ্য করে। অথচ প্রথম যখন একজন মানুষ কোন মেয়ের সাথে কথাবার্তা বলে তার দিকে তাকায় তখন তো আর খারাপ কোন উদ্দেশ্য থাকে না। ধীরে ধীরে তা অবনতি হতে থাকে এবং তা বড় আকার ধারণ করে। ছোট হারাম বা ছোট গুনাহের প্রতি শৈথিল্য তাকে বড় হারাম কবীরা গুনাহ দিকে নিয়ে যায়

 ষষ্ঠ: যৌন উত্তেজক বস্তুর সাথে উঠাবসা করা:

হারাম নিষিদ্ধ কাজে একজন মানুষ তখন লিপ্ত হয়, যখন বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক কাজ যেমন, গান-বাজনা, সিনেমা, মেয়েদের সাথে কথা বলা হাসি ঠাট্টা ইত্যাদির সাথে তার সংশ্রব থাকে। যেমন, শরীয়ত রাস্তার মাঝে বসা নিষেধ করে। কারণ রাস্তায় বসলে বিভিন্ন ধরনের নোংরা ছবির, পোস্টার মেয়েদের দেখার আকাঙ্ক্ষা থাকে যেগুলো একজন মানুষের যৌন উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করে এবং অপকর্মের দিকে উৎসাহ যোগায়

আল্লাহ আমাদের সবাইকে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন





মন্তব্য