তাওহীদ

ঈমান

Alorpath 8 months ago Views:76

ঈমানদার ব্যক্তিরাই প্রকৃত প্রগতিশীল। পর্ব ১



ঈমানদার ব্যক্তিরাই প্রকৃত প্রগতিশীল


লেখক : লিয়াকত আলী আব্দুস সাবুর

বিশ্ব এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। প্রকৃতি এখন মানুষের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে গোটা পৃথিবী পরিণত হয়েছে একটি গ্রামে নয়, একটি পরিবারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ এখন পৃথিবী ছেড়ে মহাশূন্যেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত। এমতাবস্থায় অতীত দিনের বিশ্বাস ও ধ্যানধারণায় পরিবর্তন আসা খুবই স্বাভাবিক। মানব জীবনের স্বরূপ, তার কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন এবং বিশ্বে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণে মানুষের চিন্তা-ভাবনা বারবার পরিবর্তিত রূপ গ্রহণ করে। তাই বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানুষ তার নিজস্ব গতি-প্রকৃতি নির্ধারণে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস নতুন কোন বিষয় নয়। প্রাক ঐতিহাসিক যুগ থেকেই মানুষের এ বিশ্বাস চলে আসছে। শিল্প বিপ্লব ও রেনেসাঁর ফলে বিশ্ব যখন নতুন মোড় নিতে শুরু করে তখনই এ প্রশ্ন দেখা দেয় যে, স্রষ্টার বিশ্বাস মানবজীবনের অগ্রগতি ও উন্নয়নে কতটুকু সহায়ক। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে প্রথমেই দেখা দরকার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্যে কি প্রয়োজন এবং তা কিভাবে অর্জিত হতে পারে?


প্রগতির জন্যে প্রয়োজন দৃঢ় মানসিকতা

মানুষকে অগ্রগতির পথে চালিত করে তার দৃঢ় মানসিকতা। যে ব্যক্তি সর্বদা সংশয় ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে তার পক্ষে কঠিন কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া যেকোন কর্মতৎপরতায় সাময়িক ব্যর্থতা আসতে পারে। তা সত্ত্বেও নিজ পদক্ষেপে দৃঢ় ও অবিচল থাকা গতিশীলতার লক্ষণ। সম্মুখে চলতে হলে যেকোন বাধা অতিক্রম করার মনোভাব থাকতে হয়। একজন ঈমানদার ব্যক্তির মধ্যেই এরূপ দৃঢ়তা আসতে পারে। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের কারণে সে পৃথিবীর কোন শক্তিকেই ভয় পায় না। সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর ভরসা করে সে যেকোন কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারে। যেহেতু সাফল্য নির্ভর করে আল্লাহর মঞ্জুরীর উপর তাই সাময়িক ব্যর্থতায় সে সাহসহারা হয় না। ঈমানের বদৌলতে সে সম্মুখপানে এগিয়ে চলে সাহসের সাথে।

দৃঢ়তা ভারসাম্যের পরিপন্থী নয়

কোন মুমিন ব্যক্তি নিজ কর্মে ও বক্তব্যে ভারসাম্য হারায় না। দৃঢ়তার নামে সে কোন নীতিকে অতিক্রম করতে পারে না। কারণ জবাবদিহিতার চিন্তা তাকে সীমালংঘন করার মানসিকতায় বাধ সাধে। নিজ জীবনের অগ্রগতি সাধন করতে গিয়ে সে অন্যের অনিষ্টের কথা চিন্তা করতে পারে না। পার্থিব উন্নতির জন্যে শত প্রচেষ্টায় লিপ্ত থেকেও সে পরকালের কল্যাণের কথা স্মরণ রাখে। তার চরিত্রের দৃঢ়তা তাকে নীতির উপর অটল রাখে।

চরিত্র মানসিকতার পরিচায়ক

মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয় তার চরিত্রের বিচারে। উন্নত চরিত্রের লোকই সমাজের প্রিয়পাত্র হয়ে থাকে। উন্নত চরিত্র ঈমানের পরিচয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সর্বোত্তম চরিত্র বিশিষ্ট ব্যক্তিই সবচেয়ে পূর্ণ ঈমানের অধিকারী।’
চরিত্র দ্বারা মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়, যার মনোভাব যেরূপ, তার চালচলন ও জীবনধারা সেরূপই হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি স্বচ্ছ মনের অধিকারী তার ক্রিয়াকলাপে এর স্বচ্ছতা ফুটে উঠে। মানুষের প্রতি ভালবাসা যার অন্তরে বদ্ধমূল থাকে, সে কাউকে কষ্ট দিতে পারে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ভোগবাদী চিন্তাধারায় চালিত হয়, তার প্রবণতা থাকে শুধুমাত্র আত্মতুষ্টি। জগতের সবাই গোল্লায় গেলেও সে নির্বিকার থাকতে পারে। মূলতঃ মানসিক প্রবণতাই মানুষকে সৎ কিংবা অসৎ কর্মে উদ্বুদ্ধ করে। কর্মই চরিত্রের চিত্র আর চরিত্র মানসিকতার দর্পণ।

বিশ্বাস চরিত্র নির্ধারণ করে

একজন ঈমানদার ব্যক্তির চরিত্র হয় নির্মল। ঈমান তাকে উন্নত জীবনের দিশা দান করে। সবরকমের অনর্থক ও অকল্যাণকর ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত রাখতে ঈমানের কোন বিকল্প নেই। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ইহকাল সর্বস্ব জীবনে বিশ্বাসী, তার চরিত্র কখনই উন্নত হতে পারে না। মায়া-মমতা, করুণা, পরোপকার তার দৃষ্টিতে অনর্থক। প্রগতির সংজ্ঞা এখানে এসে পরিবর্তিত হয়ে যায়। জনকল্যাণ হবে প্রগতির পরিপন্থী। বিশ্বাসের কারণেই তার কর্মে গতি সঞ্চারিত হয়। ইহজাগতিক কিংবা পরকালীন জীবনবোধ মানুষকে তার চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। অতএব চরিত্র গঠনের জন্যে বিশ্বাস হলো পূর্বশর্ত।



মন্তব্য