ইসলামের বিধি নিষেধ

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১০

Alorpath 7 months ago Views:171

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১০


 প্রশ্নোত্তর। পর্ব ৯

(৫১) তাওহীদুল আসমা ওয়াস্ সিফাত কাকে বলে?

তাওহীদুল্ আসমা ওয়াস্ সিফাতের অর্থ হল, আল্লাহ নিজেকে যে সমস্ত নামে নামকরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবে নিজেকে যে সমস্ত গুণে গুণান্বিত করেছেন তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে যে সমস্ত সুন্দর নামে এবং সুউচ্চ গুণে গুণান্বিত করেছেন, তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা। তার ধরণ বর্ণনা করা ব্যতীত যেভাবে বর্ণিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করা। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের অনেক স্থানে কোন প্রকার ধরণ বর্ণনা করা ব্যতীত স্বীয় গুণাবলী উল্লেখ করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

তাদের সম্মুখের পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন। কিন্তু তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না’’ (সূরা তোহাঃ ১১০)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ "কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’’ (সূরা শুরাঃ ১১)

 আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ‘ ‘তাকে তো কারও দৃষ্টি পরিবেষ্টন করতে পারে না। আর তিনি সকল দৃষ্টি পরিবেষ্টনকারী। তিনি অতি সুক্ষ্মদর্শী, সুবিজ্ঞ’’ (সূরা আন-আমঃ ১০৩)

 তিরমিযী শরীফে উবাই বিন কাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললঃ আমাদের সামনে আপনার রবের বংশ পরিচয় বর্ণনা করুন। তখন আল্লাহ তাআলা এই সূরাটি নাযিল করেনঃ  “বলুনঃ তিনি আল্লাহ্ একক। আল্লাহ্ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই’’

সামাদহচ্ছে যিনি কাউকে জন্ম দেন নি বা যাকে কেউ জন্ম দেয়নি। কারণ জন্মগ্রহণকারী সকল বস্ত্তই মরণশীল। আর মরণশীল প্রতিটি বস্ত্তই উত্তরাধিকারী রেখে যায়। আর আল্লাহ তাআলা মরণশীল নন, তিনি কাউকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণকারী নন।আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেইঅর্থাৎ কেউ তাঁর সমকক্ষ, সমান মর্যাদা সম্পন্ন এবং কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়


(৫২) কুরআন হাদীছ থেকে আল্লাহর সুন্দর নামগুলোর দলীল কী?

উত্তরঃ কুরআন হাদীছে আল্লাহর অনেক সুন্দর নাম থাকার কথা বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তার বিকৃত করে’’ (সূরা আরাফঃ ১৮০)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘বলুনঃ তোমরা আল্লাহ্কেআল্লাহনামে আহবান কর বারাহমাননামে আহবান কর, তোমরা যে নামেই আহবান কর না কেন, তাঁর রয়েছে অনেক সুন্দর নাম’’ সূরা বানী ইসরাঈলঃ ১১০)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃআল্লাহ্, ব্যতীত অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই। সব সৌন্দর্য মন্ডিত নাম তাঁরই (সূরা তোহাঃ )

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আল্লাহর এমন নিরানববইটি নাম রয়েছে যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্ত করবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে’’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার সেই প্রত্যেক নামের উসীলা দিয়ে আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, যে নামের মাধ্যমে আপনি নিজের নাম করণ করেছেন বা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন বা আপনার কোন বান্দাকে শিক্ষা দিয়েছেন অথবা যে নামগুলোকে আপনি নিজের জ্ঞান ভান্ডারে সংরক্ষিত করে রেখেছেন, কুরআনকে আমার অন্তরের শান্তিতে পরিণত করে দিন

 (৫৩) কুরআন থেকে আল্লাহর সুন্দর সুন্দর কতিপয় নামের উদাহরণ দিন?

উত্তরঃ কুরআন মজীদে আল্লাহর অনেক গুণ বাচক নাম উল্লেখিত হয়েছে। নিম্নে কতিপয় উদাহরণ পেশ করা হল। যেমন আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘আল্লাহ তাআলা علي-আলী (সমুন্নত), এবং كَبِير কাবীর (মহীয়ান)’’ (সূরা নিসাঃ ৩৪)

আল্লাহ্ তাআলা বলেন: ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ لَطِيف লতীফ (সুক্ষ্ণদর্শী) এবং خَبِير খাবীর (সর্ব বিষয় অবহিত)’’ (সূরা আহযাবঃ ৩৪)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ عليم (মহাজ্ঞাণী قَدِيْر ( (সর্বশক্তিমান)’’ (সূরা ফাতিরঃ ৪৪)

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ سميع (শ্রবণকারী) بصير (দর্শনকারী)’’ (সূরা নিসাঃ ৫৮)

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘(নিশ্চয়ই আল্লাহ عَزِيز (মহাপরাক্রমশালী) حَكِيم(প্রজ্ঞাময়)’’ (সূরা নিসাঃ ৫৬)

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ غَفُور (ক্ষমাশীল) رَحِيم (দয়াময়)’’ (সূরা নিসাঃ ২৩)

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই তিনি رَءُوف (দয়াশীল) رَحِيم (দয়াময়)’’ (সূরা তাওবাঃ ১১৭)

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘আর আল্লাহ غَنِيّ (সম্পদশালী) حَليْم (সহিষ্ণু)’’ (সূরা বাকারাঃ ২৬৩)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসার যোগ্য حَمِيد مَجِيدٌ (মহামহিমান্বিত)’’ (সূরা হুদঃ ৭৩)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে قَدِيرٌ (শক্তিমান)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আমার প্রভু قَرِيب (একান্ত নিকটবর্তী) مُجِيب (ডাকে সাড়া দানকারী)’’ (সূরা হুদঃ ৬১)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর رَقِيب (তত্ত্বাবধানকারী)’’ (সূরা নিসাঃ )

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘আর وكيلً (কার্য সম্পাদনকারী) হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট’’ (সূরা নিসাঃ ৮১)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘এবং আল্লাহই حَسِيب (হিসাব গ্রহণকারী) হিসাবে যথেষ্ট’’ (সূরা নিসাঃ )

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘বস্ত্ততঃ আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে مُقِيت (ক্ষমতাশীল)’’ (সূরা নিসাঃ ৮৫)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘তোমার প্রতিপালক সর্ব বিষয়ে شَهِيْد (সাক্ষী)’’ (সূরা হামীম সাজদাহঃ ৫৩)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ের مُحِيط (পরিবেষ্টনকারী)’’ (সূরা ফুস্সিলাতঃ ৫৪)

আল্লাহ্ তাআলা বলেন: ‘‘আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন সত্য إله (উপাস্য) নেই। তিনি حَيُّ (চিরজীবন্ত) قَيُّوم (সব কিছুর ধারক) (সূরা বাকারাঃ ২৫৫)

আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘‘তিনিই الأَوَّلُ (প্রথম) তিনিই الآخِرُ (সর্বশেষ) তিনিই الظَّاهِرُ (প্রকাশমান) তিনিই الْبَاطِنُ (অপ্রকাশমান) আর তিনি সর্ব বিষয়ে عَلِيم (মহাজ্ঞাণী)’’ (সূরা হাদীদঃ )

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই। তিনি عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ (অদৃশ্য দৃশ্য সব কিছু সম্পর্কে অবগত), তিনি رحْمَنُ (পরম করুনাময়) رَحِيمُ (অসীম দয়ালু) ‘‘তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই। তিনি مَلِك (মালিক), قُدُّوس (অতি পবিত্র) سَلَام (পরিপূর্ণ শান্তিদাতা) مؤْمِن (নিরাপত্তা দানকারী), مُهَيْمن (রক্ষক), عَزِيز (মহাপরাক্রমশালী), جَبَّار (প্রতাপশীল), مُتَكَبِّر (অতী মহিমান্বিত) তারা যাকে শরীক সাব্যস্ত করে আল্লাহ তাআলা তা থেকে পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, خَالِق (সৃষ্টিকারী), بَارِي (উদ্ভাবক), مُصَوِّر (রূপদাতা), সকল উত্তম নাম তাঁরই। আর তিনি عَزِيز (মহাপরাক্রমশালী) حَكِيم (প্রজ্ঞাময়)’’ (সূরা হাশরঃ ২২-২৪)

আল্লাহর রাস্তায় নির্যাতন সহ্য করা সুন্নত

(৫৪) হাদীছ থেকে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ থেকে কতিপয় সুন্দর নাম উল্লেখ করুন

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর পবিত্র জবানীতেও আল্লাহর অনেক সুন্দর নাম বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীঃ ‘‘আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই। যিনি عليم (মহাজ্ঞাণী), حَليْم (সহিষ্ণু) আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই। যিনি আরশে আযীমের মালিক। আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই। আসমানসমূহ যমীনের মালিক এবং যিনি মর্যাদাবান আরশের মালিক’’ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )এর বাণীঃ ‘‘ইয়া হাইয়্যু! (চিরঞ্জিব) ইয়া কাইয়্যুমু! (রক্ষক), ইয়া যাল যালালি ওয়াল ইকরাম! (মহা সম্মানের অধিকারী) ইয়া বাদীউস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরযি! (আকাশসমূহ পৃথিবীর স্রষ্টা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণীঃ ‘‘আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে পৃথিবী আকাশের কোন জিনিষ ক্ষতি সাধন করতে পারে না, এবং তিনিই سَمِيع (সর্বশ্রোতা) عَلِيم (সর্বজ্ঞ)’’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণীঃ ‘‘হে আল্লাহ! অদৃশ্য দৃশ্য জগৎ সম্পর্কে অবগত, আসমানসমূহ যমীনের স্রষ্টা, সব কিছুর প্রতিপালক (رب) মালিক (مَالِك)’’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআয় বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আকাশমন্ডলী, পৃথিবী, আরশে আযীমের رَبّ (অধিপতি) হে আমাদের সকল বস্ত্তর প্রতিপালক! হে فَالِقُ الحَبِّ والنَّوَى (দানা বীজ উৎপাদনকারী) তাওরাত, ইনজীল কুরআন অবতীর্ণকারী। আমি তোমার নিকট প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার ললাটের কেশগুচ্ছ তুমি ধারণ করে আছ। হে আল্লাহ! আপনিই أَوَّل (প্রথম) আপনার পূর্বে কেউ ছিল না। আপনিই أَخِر (সর্বশেষ), আপনার পর কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আপনিই ظَاهِر (প্রকাশমান), আপনার উপরে আর কেউ নেই। আপনিই بَاطِن (অপ্রকাশমান), কোন কিছুই আপনার জ্ঞান থেকে অপ্রকাশ্য নয়’’[4] অর্থাৎ অপ্রকাশ্য সকল বস্ত্ত সম্পর্কে আপনি পূর্ণ অবগত আছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী উভয়ের মাঝের সব কিছুর نُوْر (নূর) আপনার জন্যে সমস্ত প্রশংসা। আপনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী উভয়ের মাঝের সব কিছুর قَيُّوم (রক্ষক)’’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দুআঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কথার সাক্ষ্যের উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, আপনিই আল্লাহ। আপনি ছাড়া সত্য কোন মাবুদ নেই। আপনি একক অমুখাপেক্ষী। যিনি কাউকে জম্ম দেন নি এবং কেউ যাকে জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই’’ ‘‘ইয়া مُقَلِّب الْقُلُوْب (হে অন্তর পরিবর্তনকারী)! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন’’



মন্তব্য