ইসলামের বিধি নিষেধ

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১২

Alorpath 7 months ago Views:164

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১২


প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১১

(৫৯) পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, আল্লাহর সিফাতসমূহ দুই প্রকার সিফাতে যাতিয়া বা সত্বাগত গুণ সিফাতে ফেলীয়া বা কর্মগত গুণ কুরআন মজীদ থেকে সিফাতে যাতিয়ার কতিপয় উদাহরণ দিন?

কুরআন মজীদ থেকে নিম্নে কতিপয় সিফাতে যাতিয়ার দৃষ্টান্ত পেশ করা হলঃ আল্লাহ্ বলেনঃ ‘‘আর ইহুদীরা বলেঃ আল্লাহর হাত বন্ধ হয়ে গেছে। তাদেরই হাত বন্ধ হোক! কথা বলার কারণে তাদের প্রতি অভিসম্পাত; বরং তাঁর উভয় হস্ত উন্মুক্ত। তিনি যেরূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন।’’ (সূরা মায়িদাঃ ৬৪)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমাময় মহানুভব পালনকর্তার চেহারা ব্যতীত’’ (সূরা আর্ রাহমানঃ ২৬-২৭)

আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ ‘‘আমি আমার নিকট হতে আপনার উপর ভালবাসা ঢেলে দিলাম, যাতে আপনি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হন’’ (সূরা তোহাঃ ৩৯)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘তিনি কতই না সুন্দর দেখেন শুনেন’’ (সূরা কাহফঃ ২৬)

আল্লাহ তালা মূসা তাঁর ভাই হারূন (আঃ)কে লক্ষ্য করে বলেনঃ আল্লাহ বললেনঃ তোমরা ভয় কর না, আমি তোমাদের সাথে আছি। আমি শুনি দেখি। (সূরা তোহাঃ ৪৬)

আল্লাহ্ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘তাদের সম্মুখের পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন। তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে পরিবেষ্টিত করতে পারে না’’ (সূরা তোহাঃ ১১০)

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘আর আল্লাহ তাআলা মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন’’ (সূরা নিসাঃ ১৬৪)

আল্লাহ্ বলেনঃ ‘‘স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা, যখন আপনার প্রভু মুসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি যালিম সম্প্রদায়ের নিকট যাও’’ (সূরা শুআরাঃ ১০)

আল্লাহ্ তাআলা আদম হাওয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ আমি কি বৃক্ষ সম্পর্কে তোমাদেরকে নিষেধ করি নি?’’ (সূরা রাফঃ ২২)

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘আর সে দিন আল্লাহ্ তাদেরকে ডেকে বলবেনঃ তোমরা রাসূলদেরকে কি জবাব দিয়েছিলে?’’ (সূরা কাসাসঃ ৬৫) ছাড়াও আরো উদাহরণ রয়েছে


(৬০) হাদীছ থেকে সিফাতে যাতিয়া বা সত্বাগত গুণের কতিপয় উদাহরণ দিন?

সুন্নাত হতে সিফাতে যাতিয়ার কতিপয় উদাহরণ বর্ণনা করা হল। আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘তাঁর পর্দা হচ্ছে নূর। তিনি যদি তা উন্মুক্ত করেন, তবে তাঁর চোখের দৃষ্টি যতদূর যাবে, ততদূর পর্যন্ত সকল মাখলুক তাঁর চেহারার আলোতে জ্বলে যাবে’’

অন্য হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আল্লাহর ডান হাত পরিপূর্ণ। রাত দিন খরচ করার পরও তাতে কোন কমতি হয় না। তোমরা কি বলতে পারবে আসমান-যমীন সৃষ্টি করার সময় হতে পর্যন্ত কত খরচ করেছেন? অথচ তাঁর ডান হাতে যা আছে, তা হতে কিছুই কমেনি। তাঁর আরশ পানির উপর। তাঁর অপর হাতে রয়েছে দাড়িপাল্লা। তিনি উহা উঠান এবং নামান’’

দাজ্জালের হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘সে সময় আল্লাহর পরিচয় তোমাদের নিকট অস্পষ্ট থাকবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্ধ নন’’ কথা বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চোখের দিকে ইঙ্গিত করলেন।

ইস্তেখারার হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর মধ্যে আল্লাহর সিফাতে যাতিয়া তথা সত্বাগত গুণাবালীর বিবরণ এসেছে। তিনি বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্! আমি আপনার জ্ঞানের দোহাই দিয়ে আপনার কাছে ভালটা এবং আপনার শক্তির বদৌলতে আপনার কাছে শক্তি কামনা করছি। আর আপনার কাছেই আপনার মহা কল্যাণ কামনা করছি। নিশ্চয় আপনি শক্তির অধিকারী কিন্তু আমি মোটেও শক্তি রাখিনা, আর আপনি সবই জানেন অথচ আমি কিছুই জানিনা, আর আপনি তো অদৃশ্যেরও জ্ঞানী’’

কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলেন, তাঁর সাহাবীগণ উচ্চস্বরে দু করছে। তখন তিনি বললেনঃ ‘‘তোমরা বধির অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না। তোমরা এমন এক সত্বাকে ডাকছ, যিনি শ্রবণকারী, সর্বদ্রষ্টা তোমাদের অতি নিকটে’’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আল্লাহ্ তাআলা যখন কোন বিষয় অবতীর্ণ করতে চান, তখন অহীর মাধ্যমে কথা বলেন’’

পুনরুত্থানের হাদীছে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে আদম! আদম বলবেনঃ আমি উপস্থিত আছি’’ এমনিভাবে কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠে বানদাদের সাথে এবং জান্নাতবাসীদের সাথে আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন। মর্মে অসংখ্য হাদীছ রয়েছে

ঈমানদার ব্যক্তিরাই প্রকৃত প্রগতিশীল।

(৬১) কুরআন মজীদ থেকে সিফাতে ফেলীয়া বা কর্মগত গুণের কতিপয় উদাহরণ দিন?

কুরআন মজীদে আল্লাহর অসংখ্য সিফাতে ফেলীয়ার বর্ণনা রয়েছে, যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।

নিম্নে কতিপয় সিফাতের উদাহরণ পেশ করা হল। আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ ‘‘অতঃপর তিনি আকাশের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং সপ্ত আকাশ সুবিন্যস্ত করেন’’ (সূরা বাকারাঃ ২৯)

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ ‘‘তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, আল্লাহ্ তাআলা সাদা মেঘমালা ছায়াতলে তাদের নিকট সমাগত হবেন’’ (সূরা বাকারাঃ ২১০

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ ‘‘তারা আল্লাহর যথাযথ সম্মান করে না। সমস্ত পৃথিবী কিয়ামতের দিন থাকবে তার হাতের মুষ্ঠিতে এবং আকাশমন্ডলী থাকবে ভাজকৃত তাঁর ডান হাতে’’ (সূরা যুমারঃ ৬৭)

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ ‘‘আল্লাহ্ বললেনঃ হে ইবলীস! আমি নিজ হাতে যাকে সৃষ্টি করেছি, তাঁর সম্মুখে সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে? না তুমি তাঁর চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?’’ (সূরা সোয়াদঃ ৭৫)

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘আর আমি মুসার জন্য ফলকের উপর প্রত্যেক প্রকারের উপদেশ এবং সর্ববিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি’’ (সূরা রাফঃ ১৪৫)

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘অতঃপর যখন তাঁর প্রতিপালক পাহাড়ের উপর আলোক সম্পাৎ করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল’’ (সূরা রাফঃ ১৪৩)

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ যা ইচ্ছা তাই করেন’’ (সূরা হজ্জঃ ১৮)



মন্তব্য